Home / স্বাস্থ্য / উপজেলা-ইউনিয়ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নিন

উপজেলা-ইউনিয়ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নিন

চরম চিকিৎসক সংকটে ভুগছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো। সব মিলিয়ে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৫১ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু এর বিপরীতে কর্মরত আছেন অর্ধেকেরও কম, মাত্র ২১ জন চিকিৎসকের পাশাপাশি জনবল সংকট দেখা দিয়েছে অন্যান্য পদেও। দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে আছে এঙ-রে ও আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে ৩৬টি। এর বিপরীতে কাগজে-কলমে কর্মরত আছেন ১৮ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে আবার দুজন দীর্ঘ ছয় ও পাঁচবছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এছাড়া ১২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৫ জন চিকিৎসকের স্থলে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এছাড়া পুরো উপজেলায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় তৃতীয় শ্রেণির ১৯১ টি পদের বিপরীতে ১২৭ জন কর্মরত আছেন। পদ শূন্য রয়েছে ৬৪টি। একইভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ৩৩ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৮ জন। পত্রিকান্তরে সম্প্রতি এ খবর প্রকাশিত হয়।
খবরে আরো বলা হয়, সম্প্রতি ৫০ শয্যাবিশিস্ট মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ১৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র আটজন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয়ার জন্য টিকিট কাউন্টারে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু বহির্বিভাগের অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ। এসময় কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) সহ আরো পাঁচজন চিকিৎসক। এছাড়া আরো একজন চিকিৎসক বদলি হয়েছে, ছুটিতে আরো দুজন চিকিৎসক। আর একজন চিকিৎসক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিউটিতে গেছেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান-এ পাঁচটি মানুষের মৌলিক অধিকার। যে কোন রাষ্ট্রে নাগরিকদের এই পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সে রাষ্ট্রের সরকারের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কিন্তু আমাদের দেশের সংবিধানে সে কথাটি লিখিত থাকলেও এগুলো অবশ্য পালন করা হচ্ছে না। যদি মানা হতো তাহলে মিরসরাইয়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার এই হাল হতো না। ৫১ জন চিকিৎসকের পদে মাত্র ২১ জন, অর্থাৎ অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হতো না। উপরোক্ত খবরে আরো জানা যাচ্ছে, চিকিৎসকের পাশাপাশি জনবল সংকট দেখা দিয়েছে অন্যান্য পদেও। দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে আছে এক্স-রে ও আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন। আমরা বুঝতে পারি না একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অপরিহার্য এ দুটো মেশিন ছাড়া চলছে কী করে? এ যেন, ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিরিধাম সর্দার। সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এক্স-রে ও আলট্রাসোনোগ্রাফি বিকল মেসিনগুলো সরিয়ে সে স্থলে নতুন এক্সরে ও আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন বসিয়ে দেওয়া। খবরে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। এটি হলো দুজন চিকিৎসক দীর্ঘ ছয় ও পাঁচ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়ে একাধিকবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনকে জানান। পদ দুটি শূন্য না করা পর্যন্ত পদগুলোয় নতুন কাউকে আনাও যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন জানান, দুই চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা জেলা সিভিল সার্জনকে জানায়নি। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের গড়িমসিসহ নানা কারণে মিরসরাইয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিঘ্ন হওয়া কাম্য নয়। বস্তুত শুধু মিরসরাই উপজেলা নয়, দেশের অধিকাংশ উপজেলা ও জেলায় স্বাস্থ্যসেবা যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না। আর এ জন্য অনেক রোগী পার্শ্ববর্তী দেশসহ থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য চলে যাচ্ছেন। আর এজন্য বিদেশে আমাদের দেশের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা, সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে এবং সেবা প্রদানে ত্রুটি ও গলদগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনে ত্বরিত উদ্যোগ নেবে।

About admin

Check Also

গরমে প্রাণ জুড়াবে স্বাস্থ্যকর ফ্রুট সালাদ

তীব্র গরমে মুখে ভালো লাগে না কোনো কিছুই। বিশেষ করে ইফতারিতে। সারাদিন রোজার পর শরীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *